যুক্তরাস্ট্রের বার্তা নিয়ে তেহরানে পাকিস্তান সেনা প্রধান আসিম মুনির
ইসলামাবাদে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে ব্যর্থ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কয়েক দিন পর, আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এ বিষয়ে আব্বাস আরাঘচির টেলিগ্রাম চ্যানেলে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের স্বাগত জানানোর বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে: ‘আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছেছেন।’ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইংও ইরানে তার পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছে। তারা আরও বলেছে, চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও তেহরানে গেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এর আগে জানিয়েছিল, উচ্চপদস্থ এই পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলটি ওয়াশিংটন থেকে একটি ‘নতুন বার্তা’ নিয়ে আসছে এবং সেখানে দ্বিতীয় দফা আলোচনার বিষয়ে কথাবার্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান বুধবার নিশ্চিত করেছে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানীতে প্রথম দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও পাকিস্তানের মাধ্যমে উভয় পক্ষ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত রোববার ইরানি প্রতিনিধি দল তেহরানে ফেরার পর থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে বেশ কিছু বার্তা বিনিময় হয়েছে।’
Advertisement
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাটি হয়েছিল কয়েক দিন আগে ঘোষিত দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ওই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
আলোচনার মূল বিরোধের জায়গাগুলো তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেওয়ার জন্য ইরানের কঠোর সমালোচনা করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথটি প্রায় বন্ধ রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছিল। এর বিপরীতে ইরান পাঁচ বছরের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার প্রস্তাব দেয়—যা মার্কিন কর্মকর্তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বুধবার ইসমাইল বাঘাই বলেন, আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি ছিল ‘অযৌক্তিক এবং অবাস্তব’। তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘চাপ দিয়ে বা যুদ্ধের মাধ্যমে এটি কেড়ে নেওয়া যাবে না।’
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ‘আলোচনাযোগ্য’ তবে ইরানকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে হবে। গত সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে কার্যকর হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধের সমালোচনা করে বাঘাই বলেন, এটি সফল হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরান কেবল মার্কিন শর্তগুলো মেনে নেওয়ার জন্য কোনো আলোচনায় বসবে না।’
কমেন্ট বক্স