১.
আজকে ডাক্তারের চেম্বারে অপেক্ষমান ।
এমন সময় একজন ভাই ফাইল হাতে বললেন আপনি কী বাংলাদেশী ?
আমি বললাম হ্যা ।
তিনি বললেন আমার এনজিওগ্রাম ছিলো কিন্তু ভয়ে করিনি। কেনো ? আমার হার্টের প্রবলেম নাই।
আমি বললাম কিভাবে বুঝলেন আপনার হার্টে সমস্যা নাই!
ডাক্তার ইসিজি করেছিলো, তারপর আজকে এনজিওগ্রাম করতে বলেছিলো আমার তো বুকে ব্যথা নাই ।
তাছাড়া আমি ভালো করে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারছি না, ভাষাও জানিনা।
আবার বললেন ২০ বছর ধরে এই দেশে আছি ফ্যামিলি ও সংসার সামলাতে কোনো কিছুই শিখতে পারি নাই।
আমি বললাম ভাই আপনি না বাঁচলে ফ্যামিলি দেখবেন কী করে?
ওনি বললেন-
আমি রিপোর্ট নিয়ে আসছি ডাক্তারকে দেখাতে চাই।
আমি বললাম ডাক্তারের রনদেভু নিয়েছেন ?
বললেন না !
তিনি বললেন সেক্রেটারি কে বলেছিলাম,
সে বলল
ফেব্রুয়ারি মাসে রনদেভু ।
-এর মধ্যে আমার ডাক আসলো ডাক্তার চেম্বার থেকে । আমি ঢুকলাম লোকটা আমার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল । আমার খুব খারাপ লাগলো লোকটার অসহায়ত্ব দেখে। আমি ডাক্তারের কাছে ভাইটির বিষয় বললাম এবং ওনাকে রনদেভুর কথা বললাম ।
বলতে বলতে দরজা খুলে ঐ ভাইটিকে ডাকলাম ভেতরে উনি ঢুকে আবার রিপোর্ট দেখাতে চাইলেন । ডাক্তার ও আমি অনেক করে বুঝালাম এটা নিয়ম না ।
তাকে দেখানোর জন্য কয়েকটি তারিখ বলা হলো তিনি বললেন কাজ আছে!
আমি ও ডাক্তার রাগ হয়ে বললাম ভাইরে জীবন না বাঁচলে কাজ দিয়ে কী করবেন। তারপর একটু ভাবলেন ও নিচের দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিছু বলছেননা । আমি ডাক্তারকে ইমার্জেন্সি রনদেভুর অনুরোধ করলাম ব।
তারপর ইমার্জেন্সি চার্জসহ ৩ ঘন্টা পরে তাঁর রনদেভু করে দেয়া হলো । তখন তার চেহারার একটা আনন্দের ছাপ দেখলাম ।
আসলে প্রবাসে আমরা ফ্যামিলি ও আত্মীয় স্বজনের কথা চিন্তা করে বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকা ও কাজের অজুহাতে তিলে তিলে নিজেদের নীরবে শেষ করে ফেলছি।
এভাবেই প্রবাসে আমরা পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজনের কথা ভেবে কাজের কারনে দীন-দুনিয়ার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি না ।
তবে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে সারাক্ষণ পরিবার বা আত্মীয় স্বজনের কথা ভাবা কতটুকু উচিত ভেবে দেখুন!