মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের অংশ, তাই এ নিয়ে সব সময়ই আলোচনা হতে হবে- আনু মুহাম্মদ

আপলোড সময় : ০২-০৫-২০২৬ , আপডেট সময় : ০২-০৫-২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের অংশ, তাই এ নিয়ে সব সময়ই আলোচনা হতে হবে। একাত্তর বা চব্বিশ—যার যে দায় রয়েছে, তাকে তা গ্রহণ করতে হবে।

শনিবার (২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের আড়াই মাস: পর্যালোচনা, উদ্বেগ ও দাবিনামা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, রাষ্ট্র যখন শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রশাসনের মতো মৌলিক খাতের সংস্কার উপেক্ষা করে, তখন তা সামাজিক ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে এবং কাঠামোগত বৈষম্য ও আস্থার সংকট তৈরি করে।


সরকারের আড়াই মাসের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির নানা চিত্র তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে মানসিক দুর্নীতি, অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে, যা প্রশাসন থেকে শুরু করে বিচারব্যবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা এবং অসম চুক্তি জনস্বার্থকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

আনু মুহাম্মদ এই সংকট উত্তরণে অবিলম্বে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের ইতিহাসের চেতনাকে ধারণ করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর দাবি জানান। 
 
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, সামিনা লুৎফা নিত্রা, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং আইনজীবী মানজুর আল মতিন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, জ্বালানি খাতে বারবার সংকট দেখিয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষিক সামিনা লুৎফা নিত্রা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সংকট এবং বৈষম্য একটি মানবিক ও সুসংগঠিত শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। শিক্ষকদের মর্যাদা, পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য, বিশেষ করে এমপিও ও নন-এমপিও বিভাজন, শিক্ষাক্ষেত্রকে দুর্বল করে তুলছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি একটি একীভূত ও মর্যাদাসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষক কাঠামোর দাবি জানান।

লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলা। বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও তার অগ্রগতি সীমিত। কৃষকের ন্যায্যমূল্য, স্থানীয় সরকারে কেন্দ্রীয়করণ এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করছে। 

মানজুর আল মতিন বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এতে রাষ্ট্র ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের মধ্যে একটি গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। যা একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। 

তিনি দাবি জানান, কোনও ব্যবস্থার ত্রুটি থাকলে তা পুরোপুরি বাতিল না করে বরং পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংশোধন, উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। 

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিন স্তম্ভ: তৈরি পোশাক শিল্প, নির্মাণ খাত এবং কৃষি ও উৎপাদনশীল ক্ষেত্র আজ নানামুখী সংকটে বিপর্যস্ত। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয় বরং গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোগত ব্যর্থতারই প্রতিফলন।  

সম্পাদকীয় :

Editor and Publisher-    Muhammad Nurul Islam

Executive Editor-  Kazi Habibur Rahman.  Managing Editor -  Eng. Mohammed Nazim Uddin
Head Office: Paris, State: Île-de-France
Dhaka office : House No-421 (1st Floor), Road No- 30, New DOHS, Mohakhali, Dhaka. Bangladesh.

Email: editor.eurobarta@gmail.com.

www.eurobarta.com সকল অধিকার সংরক্ষিত 

অফিস :