অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দাবি আদায়ের নামে কতিপয় মহল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দীর্ঘ এক বছরেও এদের আন্দোলন বিক্ষোভ থামছে না। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে এদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান, আনশন এমনকি স্পর্শকাতর এলাকায় কর্মসূচি ঘোষণা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের উচ্চপদস্থের অশ্বস্থির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এসব এলাকায় ওপেন ডে তে এমন কর্মসূচি অফিসগামী মানুষকে বেকায়দায় ফেলে বড়ধরনের ক্ষতি ও প্রচন্ড যানজট সৃষ্টি নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এতে রাজধানীবাসী এখন অতীষ্ঠ। কিন্তু এর কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
এসব দাবী আদায়ের আন্দোলনকারীদের এর আগে বিগত সরকারের সময়ে কখনই এসব দাবী নিয়ে এভাবে রাজধানীতে এসে আন্দোলন বা দাবী জানাতে দেখা যায়নি।
অনেকেই এরমধ্যে সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলা সহ দেশে বিশৃংখলা ও দেশে অরাজকতা তৈরীর পায়তারা হিসেবে মনে করছেন।
কারন বিগত সময়ে এসব আন্দোলকারীরা মার্চ টু যমুনার মত কঠিন কর্মসূচি দেয়ার পর সেগুলো প্রতিরোধে আইনশৃংখলাবাহিনীকে টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড, পানি স্প্রে সহ অনেকরকম বাধা দিলে উল্টা তারা সাধারন মানুষের অনুকম্পা পেতে মিডিয়ায় বিভিন্ন মতামত তৈরী করে প্রচার করে সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন ও আইনশৃংখলাবাহিনীকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়ার পরিস্থিতি তৈরী করে আসতো। শান্তিপূর্ণ দাবী জানানো ও আন্দোলন সকলের গনতান্ত্রিক অধিকার হলেও আন্দোলনের নামে রাস্তা ব্লক করে মানুষের দৈনন্দিন কাজে বাধা ও পরিবহন আটকে দেয়া সম্পুর্ন অবৈধ।
আইনশৃংখলাবাহিনী উপায়ান্ত না দেখেই তাদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলে তখন পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠতো। এভাবেই চলে আসছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস।
এদিকে লাগাতার এমন কর্মসূচি রুখতে পুলিশ বহুবার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করনের বহু বিজ্ঞপ্তি জারি করেও কূলকিনারা করতে পারছেনা।
ভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে রোববার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি সংগঠন ও গোষ্ঠী একযোগে কর্মসূচি আরম্ভ করে। এতে করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় রাজধানীর কোথাও কোথাও ব্যাপক জনভোগান্তি ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এমনটি জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
২ নভেম্বর ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, পিপিএম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমপিও ভুক্তির দাবিতে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সমূহের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তকরণ, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ এমপিও ভুক্তকরণের দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে বেশ কয়েকটি সংগঠন অবস্থান করছে। এছাড়া চাকুরীপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট ও ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নন-ক্যাডারে নিয়োগ প্রদানের জন্য সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চলছে। যার ফলে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না।

শত বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তথাপি অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে যানজট বৃদ্ধির ফলে যে জনভোগান্তি তৈরি হয়েছে সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।