বহুল আকাংখিত গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উৎসবমুখর এক পরিবেশে শেষ হলো জেন জি প্রভাবিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পিতবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ইসির নির্দেশনা ছিল, বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের পরেও ভোট দিতে পারবেন; তবে এরপর আর নতুন কাউকে লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সারাদেশে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল।
তিনি সাংবাদিককে বলেন, “ভোটকেন্দ্রের বাইরে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে কোনো বড় ধরনের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টা বললেন ‘ঈদ মোবারক’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। আজ তাঁর জীবনের মহাআনন্দের দিন। বাংলাদেশের সবার জন্য মহাআনন্দের দিন। মুক্তির দিন। দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরুর দিন। সবাইকে মোবারকবাদ জানান তিনি। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঈদ মোবারক’।
‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়নের ট্রেনে উঠে গেছে’
সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট দেওয়া শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নাসির উদ্দিন বলেন, আজকের ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণের দিনের শুভসূচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়নের ট্রেনে উঠে গেছে। বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে, গণতন্ত্রের এই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাবে, এটা তাঁরা দৃঢ় বিশ্বাস।
ভোট দিয়ে উচ্ছাস দুই তরুনী/ছবি সংগৃহীত
‘জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’ তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান। গুলশানে এক কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন। দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ হয়, বিতর্কহীন হয়, তাহলে তাঁর দল ফলাফল মেনে নেবে।
জামায়াত আমির বললেন ‘সরকার গঠনে আশাবাদী’
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সকালে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাস ও দখলমুক্ত, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক, এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। এই ভোটের মাধ্যমে এমন সরকার গঠন হোক, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না, যা হবে ১৮ কোটি মানুষের। তাঁরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী। ভোট যদি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, তাঁরা সেই ফলাফল মেনে নেবেন। অন্যদেরও তা মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
এনসিপি’র নাহিদ বললেন ‘আমরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে’
ভোটের দিন রাজধানীর বেরাইদের এ কে এম রহমত উল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট (১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ) গড়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। আমরা মনে করছি, আমরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি।’
উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এ নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি আওয়ামী লীগকে।