অন্তত ২০ হাজার মার্কিনির মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। যুদ্ধের ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে হাজার হাজার আমেরিকান এখন চার্টার ফ্লাইট এবং বিশেষ স্থল পরিবহনের মাধ্যমে অঞ্চলটি ত্যাগ করছেন।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর তেহরান এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো (হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতি) মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। এই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক জরুরি সতর্কবার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশ থেকে তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা এখনো আটকা পড়ে আছেন তাদের জন্য চার্টার ফ্লাইট এবং নিরাপদ করিডোর তৈরির কাজ "ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি" করা হবে। অনেককে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে, আবার অনেককে পার্শ্ববর্তী নিরাপদ কোনো তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এই বিশাল উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের (বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) সমন্বয় নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। নাগরিকরা অভিযোগ করছেন, কোন দেশ থেকে কীভাবে বের হতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে।
বিশেষ করে কাতার, কুয়েত এবং জর্ডানে থাকা কয়েক হাজার আমেরিকান নাগরিক এখন বিমানবন্দরে ভিড় করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত এই নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া না যায়, তবে চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তারা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সূত্র- আল জাজিরা
কমেন্ট বক্স