ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আর হামলা নয়- নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আর হামলা না করার জন্য ইসরায়েলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
গত বুধবার ইরানের সাউথ ফার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালায় ইসরায়েল। জবাবে কাতার, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায় ইরান। এমনকি, ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হেনেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েই চলছে।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার পুনারুবৃত্তি যেন না হয় তা আমি ইসরায়েলকে বলে দিয়েছি।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য এমন সময় এলো যখন কি না গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে।
সাউথ ফার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলার প্রতিক্রিয়ায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ গ্যাস প্রক্রিয়াজাত সেন্টার রাস লাফান। ইরানের হামলায় রাস লাফানের যতটুকু ক্ষতি হয়েছে তার সারতে বছরখানেক মতো সময় লাগতে পারে।
এদিকে, লৌহিত সাগরে সৌদি আরবের প্রধান বন্দরও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর এ বন্দর দিয়ে রফতানি করতো রিয়াদ।
এ হামলাগুলো ইরানের স্থায়ী সক্ষমতা তুলে ধরেছে। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি সম্পদ রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতাগুলোকে স্পষ্ট করেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ছে। রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হচ্ছেন তিনি। এমনকি, তার মূল ভোটাররা তার বিপক্ষে বলছেন। সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধীরা তো রয়েছেনই।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বলেছি (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু), এমন যাতে আর না হয় এবং সে এমনটা আর করবে না।”
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা ও তিনটি সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজারখানেক সৈন্য পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, “আমি যেকোনো জায়গায় সৈন্য মোতায়েন করবো না।”
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু সাউথ ফার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা একাই এ হামলা চালিয়েছি।” পাশাপাশি ট্রাম্প যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করতে না করেছেন সেটিও জানিয়েছেন তিনি।
কমেন্ট বক্স