অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ফের ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ফের ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ আটকে দেয়ার প্রস্তুতির প্রভাব পড়েছে বাজারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তি না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যা ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি সীমিত করতে পারে।
আজ সকালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ৬ ডলার ৭১ সেন্ট বা ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়ায় ১০১ ডলার ৯১ সেন্টে।
অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৭ ডলার ৫৯ সেন্ট বা ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলার ১৬ সেন্টে পৌঁছেছে।
এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, বাজার এখন মূলত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরান-সম্পর্কিত জ্বালানি তেল প্রবাহও আটকে দিতে পারে।
গতকাল এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
তিনি আরো বলেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জ্বালানি তেল ও পেট্রলের দাম উচ্চস্তরে থাকতে পারে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় আজ সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোয় প্রবেশ ও ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের জাহাজে এ অবরোধ কার্যকর করা হবে।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সব ইরানি বন্দরসহ সব জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাওয়া-আসা করা জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কপর্স (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজকে তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে এবং কঠোর জবাব দেবে।
এ অচলাবস্থার মধ্যেও শনিবার তিনটি সুপারট্যাঙ্কার তেল বোঝাই অবস্থায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে শিপিং ডাটা থেকে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতির পর এগুলোই ছিল উপসাগর ছেড়ে যাওয়া প্রথম জাহাজ।
তবে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের আগে অনেক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজই এখন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলছে।
সূত্র: রয়টার্স
কমেন্ট বক্স