১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

অভাবী পেশায় বৈধতা নিয়েও দ্বিধা, বিতর্কে ফ্রান্সের নীতি

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ১৯-০৪-২০২৬
অভাবী পেশায় বৈধতা নিয়েও দ্বিধা, বিতর্কে ফ্রান্সের নীতি
ফ্রান্সে শ্রমিক সংকটে থাকা পেশাগুলোতে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ থাকলেও ২০২৫ সালে এই খাতে রেসিডেন্স পারমিটের সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত। ফরাসি কর্তৃপক্ষ “মেতিয়ের অঁ তঁসিওঁ” বা সংকটাপন্ন পেশার আওতায় মোট ১,৬৫৫টি রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু করেছে।

অভিবাসীদের বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম “ইনফোমাইগ্রেন্টস” এর সূত্র অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরাঁ মারি জোসেফ ন্যুনেজ-বেলদা প্রশাসনের প্রধানদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় এ তথ্য জানান। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য যাচাই করে জানায়, এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় বৈধতা পাওয়ার সুযোগ বাস্তবে খুবই সীমিত রয়ে গেছে।

সরকারি হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ৮০টি পেশাকে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অনিয়মিত অভিবাসীরা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে জমা পড়া আবেদনগুলোর মাত্র অর্ধেক এখনো প্রক্রিয়াকরণ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই প্রক্রিয়া কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার অধিকার তৈরি করে না। ২০২৬ সালের শুরুতেও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক কারণে ব্যতিক্রমী ভিত্তিতে বৈধতা (এইএস) কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালে মোট ৯,৬৯০টি রেসিডেন্স পারমিট দেওয়া হয়েছে, যা সংকটাপন্ন পেশার তুলনায় অনেক বেশি।

২০২৫ সালের মে মাসে সরকার হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে কৃষিশ্রমিক, নার্স, গৃহসহায়িকা, রাঁধুনি, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু পেশা আবার নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য।

এই তালিকার আওতায় বৈধতা পেতে হলে আবেদনকারীকে গত ২৪ মাসে অন্তত ১২ মাস কাজের প্রমাণ এবং ফ্রান্সে কমপক্ষে তিন বছর বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হয়। ২০২৪ সালের অভিবাসন আইনের অংশ হিসেবে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং প্রতি বছর এটি হালনাগাদ করার কথা রয়েছে।

এক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি তালিকাটির কিছু ইতিবাচক দিক স্বীকার করলেও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছে। সংগঠনের এক নেতা জঁ-আলবের গিদুর মতে, অর্থনীতির বড় খাত যেমন নির্মাণ, রেস্তোরাঁ, লজিস্টিকস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; যেখানে বিপুলসংখ্যক অনিয়মিত শ্রমিক কাজ করেন, সেগুলোর অনেকই তালিকার বাইরে রয়েছে।

এছাড়া কিছু পেশা একাধিক অঞ্চলে সংকটাপন্ন হলেও তালিকায় তা প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

সংকটাপন্ন পেশায় বৈধতার সুযোগ থাকলেও সামগ্রিকভাবে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের সংখ্যা কমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে এই হার ৪২ শতাংশ কমে গেছে, আর কাজের ভিত্তিতে বৈধতা কমেছে ৫৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বের কঠোর নীতিমালার প্রভাবেই এই পতন ঘটেছে। অথচ শ্রমিক সংকটপূর্ণ খাতে বৈধতা দিলে নিয়োগকর্তারাও উপকৃত হন, কারণ অনিয়মিত কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা ও পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ঝুঁকি থাকে।

একইসঙ্গে সরকার অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও বহিষ্কার নীতিতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশাসনকে বিশেষ করে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বহিষ্কারের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা সরকারের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ