//রাশেদ আহমেদ//
'মা'—এই ছোট্ট শব্দটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম অনুভূতি, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। পৃথিবীতে বহু সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অনেকে আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কিন্তু মায়ের জায়গা কেউ কখনো নিতে পারে না। কারণ একজন মা শুধু একজন মানুষ নন, তিনি সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু, প্রথম অভিভাবক এবং প্রথম ভালোবাসা। একটি সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই একজন মা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। দশ মাস দশ দিন নিজের শরীরে ধারণ করে অসংখ্য কষ্ট সহ্য করেন, কিন্তু মুখে কখনো অভিযোগ রাখেন না।একজন মা'ই জানেন 'সন্তান প্রসব' এর যন্ত্রনা কতটুকু। মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসাগুলোর একটি। একজন মা সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা, এমনকি নিজের সুখও ত্যাগ করেন—কোনো স্বার্থ ছাড়াই। জীবন যায় আর আমরাও বদলে যাই। সময়ের সাথে নিজেকে ধরা দিয়ে হারিয়ে যাই ব্যস্তময় জীবনে—যা নিতান্তই একটা অজুহাত মাত্র। তবে, একজন 'মা' তার সন্তানের জন্য ব্যস্ত নন। মনে হবে পুরো জীবনটাই যেন পরে আছে শুধুমাত্র সন্তানের জন্য। ছোট থেকে বড় হই মায়ের আঁচল ঘিরেই।
আর বড় হয়ে সেই আঁচল'কে মনে করি আবদ্ধ জীবন। মায়ের ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি একটি শক্তি। মানুষ জীবনে যত বড়ই হোক না কেন, মায়ের সামনে সে সবসময় ছোট্ট শিশুই থেকে যায়। কোনো বিপদে পড়লে মানুষ প্রথমে মাকেই মনে করে, কারণ মায়ের কাছেই সবচেয়ে বেশি শান্তি পাওয়া যায়। ইসলামে মায়ের সম্মান: ইসলামের ইতিহাসে মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উঁচু। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।” এই একটি বাক্যই বুঝিয়ে দেয় ইসলামে মায়ের সম্মান কতটা গভীর। হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর মা আমিনা (রা.) এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতেন। যদিও তিনি ছোটবেলাতেই মাকে হারিয়েছিলেন, তবুও মায়ের স্মৃতি তাঁর হৃদয়ে সবসময় জীবন্ত ছিল। ঐতিহাসিক এবং প্রাচিনকাল থেকে মায়ের সম্মানের কথা: বিশ্ব ইতিহাসে এমন বহু মায়ের কথা পাওয়া যায়, যারা যুদ্ধ, দারিদ্র্য কিংবা দুর্যোগের সময় নিজেদের জীবন বিপন্ন করে সন্তানদের রক্ষা করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অসংখ্য মা নিজেদের খাবার বঞ্চিত করে সন্তানদের বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম অনেক সময় লেখা না থাকলেও, তাদের ত্যাগ মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে। ইতিহাসে বহু মহান ব্যক্তির জীবনে মায়ের অবদান ছিল অসাধারণ। যেমন, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট একবার বলেছিলেন, "আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।" আব্রাহাম লিংকন বলেছেন- “যার মা আছে, সে কখনই গরীব নয়।” মিশেল ওবামা বলেছেন- “আমাদের পরিবারে মায়ের ভালোবাসা সবসময় সবচেয়ে টেকসই শক্তি। আর তার একাগ্রতা, মমতা আর বুদ্ধিমত্তা আমাদের মধ্যে দেখে আনন্দিত হই।” সবশেষে, মায়েরা আছেন বলেই দিনের শেষবেলায়,শত মন খারাপ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলা যায়, তাদের কাছে নিজের সব দুঃখ-কষ্ট বলে বুঝানো যায়। মায়ের এক টুকরো হাসিতে প্রাণপণ করা যায় নিজের মনকে। শুধু বিশ্ব মা দিবসেই নয় বরং প্রতিটি পদে ও পদক্ষেপে স্মরণ করি আমার ভালোবাসা এবং আমার সপ্নের অনুরাগী আমার 'মা' কে।
লেখক,
স্নাতক (সম্মান),অধ্যয়নরত, ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, ইসালামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।