১৬ অগাস্ট ২০২৬ ,  ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট রঁদেভু সংকট, দ্রুত সমাধানের দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬
ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট রঁদেভু সংকট, দ্রুত সমাধানের দাবি

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্টের রঁদেভু (Rendez-vous) পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট অব্যাহত রয়েছে। সীমিতসংখ্যক অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট প্রকাশ করা হলেও অনেক আবেদনকারী মাসের পর মাস চেষ্টা করেও রঁদেভু পাচ্ছেন না। এতে পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা গ্রহণে ভোগান্তির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অভিযোগ, আবেদন করার পরও তিন থেকে চার মাস, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারও বেশি সময় রঁদেভুর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, আবেদন করার সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যেই যেন প্রত্যেক আবেদনকারী রঁদেভু পান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা একটি মৌলিক কনস্যুলার সেবার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করেন।

রঁদেভু না পাওয়ার কারণে অনেক প্রবাসী সময়মতো ফ্রান্সের প্রিফেকচার (Préfecture) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে পারছেন না। বৈধ পাসপোর্ট ছাড়া রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন, কর্মসংস্থান, ওয়ার্ক পারমিট, পারিবারিক পুনর্মিলন, বিবাহ নিবন্ধন, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেকেই অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে পড়ছেন।

এদিকে, প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি স্লট প্রকাশ করা হলেও অধিকাংশ আবেদনকারী সেগুলো দেখতে পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও কোনো স্লট পাওয়া যায় না, আবার অল্প সময়ের মধ্যেই সব স্লট শেষ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে রঁদেভু ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি, অনিয়ম, দালালচক্র বা অন্য কোনো অপব্যবহার রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহে পরবর্তী মাসের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত করার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। দূতাবাসের দাবি, তারা প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে সক্ষম হলেও অতিরিক্ত চাহিদার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০টি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫টি অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে এবং ১৫ মে ২০২৫-এর আগে ই-মেইলে আবেদনকারীদের জন্য ৪০ থেকে ৪৫টি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তবে দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেক প্রবাসীর দাবি, বাস্তবে এখনও সহজে রঁদেভু পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও অধিকাংশ আবেদনকারী কোনো স্লট দেখতে পান না। ফলে ঘোষিত ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রবাসীদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় চাহিদা পূরণ সম্ভব না হলে বিকল্প ও আরও কার্যকর রঁদেভু পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জনবল বৃদ্ধি, চাহিদা অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা বাড়ানো, জরুরি আবেদনকারীদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা চালু এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রঁদেভু ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সরকার ও ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি প্রবাসীদের আহ্বান, পাসপোর্টসেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাদের ভাষায়, পাসপোর্ট একটি মৌলিক কনস্যুলার সেবা। এই সেবা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্টের রঁদেভু সংকটের দ্রুত, কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ