হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে রেমিট্যান্সে জোয়ার

আপলোড সময় : ০২-০১-২০২৬ , আপডেট সময় : ০২-০১-২০২৬
নতুন বছরের শুরুতেই পাওয়া গেল দারুণ এক স্বস্তির খবর। সদ্য বিদায়ী বছরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার; যা আগের বছরের (২০২৪ সাল) তুলনায় প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা ২২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। আবার এই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে মাসওয়ারি হিসাবেও রেকর্ড গড়েছে দেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন তথ্যমতে, ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশে এ পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় নিয়ে স্বাধীনতার পর গত বছর মার্চ মাসে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের বাকি ১০ মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহের সচল ধারা অব্যাহত থাকে, যার ওপর দাঁড়িয়ে বছর শেষে দেশের রিজার্ভও ইতিবাচকভাবে বেড়ে ৩৩.৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ, অর্থ পাচার কমানো এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান, প্রণোদনা ও ডলার বাজারের স্থিতিশীলতায় বছরজুড়ে প্রবাসী আয়ে এই জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে অভূতপূর্ব উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। প্রবাসীদের আস্থা ও স্বচ্ছতা ছাড়া এই প্রবাহ সম্ভব হতো না। বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও হুন্ডি ব্যবস্থার কারণে রেমিট্যান্স কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি পায়নি। সে সময় ব্যাংক খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়; যার পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। আর এই পাচারের নেপথ্যে ছিল রমরমা হুন্ডি। বিশেষ করে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে মাত্র ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের প্রবাসী রপ্তানি ও অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। তখন রেমিট্যান্স আটকে যাওয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রবাসী আয় কমে গিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি দ্রুত বুঝে কার্যকর উদ্যোগ নিলে ধীরে ধীরে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ পুনরায় শুরু হয় এবং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে—জানুয়ারিতে ২.১৯ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারি ২.৫২, মার্চ ৩.৩০, এপ্রিল ২.১৪, মে ২.৯৯, জুন ২.৮২, জুলাই ২.৪৭, আগস্ট ২.৪২, সেপ্টেম্বর ২.৬৯, অক্টোবর ২.৫৬, নভেম্বর ২.৮৯ এবং ডিসেম্বরে ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার। এই ধারাবাহিক প্রবাহের ফলে ২০২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। ওই বছর ২০২৩ সালের তুলনায় প্রবাসীরা ৪ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে ছিল ২১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, ‘রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে হুন্ডির কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আগে বিদেশে রেমিট্যান্সের ডলার কেনা হয়ে যেত, আর তার অর্থ পাচারকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকায় পরিশোধ করা হতো। এই হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ ও পাচার কমানোর ফলে এখন রেমিট্যান্স প্রবাহে জোয়ার দেখা যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, আগের নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের ফলে হুন্ডি প্রবণতা কমেছে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যাপক হারে বেড়েছে। ডলার বাজার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা আরও আস্থা নিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য শক্তিশালী সংকেত বহন করছে। 

সম্পাদকীয় :

Editor and Publisher-    Muhammad Nurul Islam

Executive Editor-  Kazi Habibur Rahman.  Managing Editor -  Eng. Mohammed Nazim Uddin
Head Office: Paris, State: Île-de-France
Dhaka office : House No-421 (1st Floor), Road No- 30, New DOHS, Mohakhali, Dhaka. Bangladesh.

Email: editor.eurobarta@gmail.com.

www.eurobarta.com সকল অধিকার সংরক্ষিত 

অফিস :