জানুয়ারিতে রেমিটেন্স এসেছে ৩ বিলিয়ন ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ , আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬
এক বছরে মাসিক প্রবৃদ্ধি ৪৫ শতাংশ, অর্থবছরেও ২২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি—দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারও শক্তিশালী গতি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ বিলিয়ন ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

জানুয়ারির এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩,১৭০ মিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই অঙ্ক ছিল ২,১৮৫ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৪৫.১ শতাংশ।

বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি—এই তিন দিনেই এসেছে ২২৯ মিলিয়ন ডলার, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৭৬ মিলিয়ন ডলার। মাসের শেষ ভাগে এই উচ্চ প্রবাহ ব্যাংকিং চ্যানেলে আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

অর্থবছরজুড়েই ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স

শুধু মাসভিত্তিক নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও (জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ বিলিয়ন ৪৩৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪-৩১ জানুয়ারি ২০২৫) এই অঙ্ক ছিল ১৫ বিলিয়ন ৯৬২ মিলিয়ন ডলার।

ফলে অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১.৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ধারা।

কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কয়েকটি কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে—ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার দর তুলনামূলক বাস্তবসম্মত হওয়া, হুন্ডির ঝুঁকি ও ব্যয় বেড়ে যাওয়া, নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কিছু দেশে শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকা ও একইসঙ্গে নির্বাচনের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে প্রবাসীরাও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কিছুটা কমছে, ব্যাংকগুলোর আমদানি দায় পরিশোধে স্বস্তি মিলছে এবং টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও চলতি হিসাবের ঘাটতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও রেমিট্যান্স বড় সহায়তা করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি যদি আগামী মাসগুলোতেও বজায় থাকে, তাহলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর আস্থা আরও জোরদার করার দিকেও নজর দিতে হবে। 

সম্পাদকীয় :

Editor and Publisher-    Muhammad Nurul Islam

Executive Editor-  Kazi Habibur Rahman.  Managing Editor -  Eng. Mohammed Nazim Uddin
Head Office: Paris, State: Île-de-France
Dhaka office : House No-421 (1st Floor), Road No- 30, New DOHS, Mohakhali, Dhaka. Bangladesh.

Email: editor.eurobarta@gmail.com.

www.eurobarta.com সকল অধিকার সংরক্ষিত 

অফিস :