ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রাঁ পালে (Grand Palais) অনুষ্ঠিত ‘চেঞ্জ নাউ’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ লেখক ও আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি এক অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। তাঁর ক্যামেরায় বন্দি প্যারিসের নান্দনিক রূপ সংবলিত বহুভাষিক চিত্রগ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ এবার পৌঁছে গেছে মোনাকোর যুবরাজ ও জাতিসংঘ পদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে।
সম্মেলন চলাকালে এক সৌজন্য সাক্ষাতে ফরিদ আহাম্মদ রনি বইটি তুলে দেন: মোনাকোর যুবরাজ আলবার্ট দ্বিতীয় (Prince Albert II of Monaco) লরেন্ট ফ্যাবিয়াস (COP21-এর সভাপতি ও ফ্রান্সের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী) মেলিসা ফ্লেমিং (জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল) বইটি গ্রহণের সময় তারা লেখক রনির সঙ্গে প্যারিসের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং হাসিমুখে এই সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ট্রোকাদেরো প্যালেসের ‘Musée de la Marine’ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং প্যারিসের মেয়র আন্নে ইদালগোর হাতে সরাসরি বইটি তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই প্রাপ্তি উপলক্ষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও প্যারিসের মেয়রের দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রশংসা পত্রও প্রদান করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের ইতিহাসে এক বিরল ও সম্মানজনক অর্জন।
‘প্যারিসের ছবি’ কেবল একটি সাধারণ আলোকচিত্রের বই নয়, বরং এটি একটি ত্রিমাত্রিক মেলবন্ধন: এটিই বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রন্থ। আইফেল টাওয়ারের আলো, লুভর মিউজিয়ামের গাম্ভীর্য, প্যারিসের রাজপথের বৈচিত্র্যময় শিল্পকলা এবং বিখ্যাত সব ভাস্কর্য লেখকের নিজস্ব ক্যামেরার ফ্রেমে এক নতুন আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় শব্দ, রং ও অনুভূতির মিশেলে প্যারিসের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। "শিল্প, কবিতা ও সৌন্দর্যের শহর প্যারিসকে দেখার এটি এক অনন্য জানালা। প্রতিটি ছবিতে মিশে আছে এক নান্দনিক ভ্রমণের গল্প।"
একজন বাংলাদেশি শিল্পীর চোখে প্যারিসকে দেখার এই আন্তর্জাতিক প্রয়াস বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় এক নতুন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। শিল্প ও আলোকচিত্রপ্রেমীদের সংগ্রহে রাখার মতো একটি অনন্য সম্পদ হিসেবে ‘প্যারিসের ছবি’ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রশংসা কুড়িয়েছে, যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্যের মর্যাদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।