মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান যেভাবে..

আপলোড সময় : ০৪-০৪-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৪-০৪-২০২৬
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যে ফুটেজ প্রকাশ করেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ট্র্যাকিং প্রচলিত রাডার পদ্ধতিতে হয়নি

কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমে গেছে বলেও দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এরই মধ্যে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তেহরান। যাকে পুনর্গঠিত প্রতিরক্ষা কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরান ট্র্যাক করছে কিভাবে।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যে ফুটেজ প্রকাশ করেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ট্র্যাকিং প্রচলিত রাডার পদ্ধতিতে হয়নি। ব্যবহার হয়েছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সেন্সর। ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার ছবিগুলোয় উচ্চ-কন্ট্রাস্ট থার্মাল ইমেজ স্পষ্ট, যা ইলেকট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সেন্সর ট্র্যাকিং সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য।

মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের রাডার-নির্ভর সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থার একটা বড় অংশ সম্ভবত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবু ইরান থেমে থাকেনি। তারা বেছে নিয়েছে প্যাসিভ সেন্সর—যে প্রযুক্তি বিমানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ এবং এয়ারফ্রেম ঘর্ষণের তাপ শনাক্ত করে, কোনো রাডার তরঙ্গ নির্গত না করেই।

ইনফ্রারেড সিস্টেম বিমানের জেট ইঞ্জিন থেকে বিকিরিত তাপ শনাক্ত করে একটি শীতল থার্মাল সিকারের সাহায্যে। অপারেটর লঞ্চারটি তাক করেন যতক্ষণ সিকার ঠান্ডা আকাশের পটভূমিতে সবচেয়ে শক্তিশালী তাপের উৎস খুঁজে পায়। একবার লক হলে, সিস্টেম সেই চলন্ত তাপ-উৎস ট্র্যাক করে মিসাইলকে নির্ভুলভাবে গাইড করে।

এ অভিযানে ইরানের স্বদেশে তৈরি মাজিদ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২১ সালের এপ্রিলে উন্মোচিত এই মিসাইল সিস্টেম ইরানের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের তৈরি। কমপ্যাক্ট আরাস-২ ফোর-বাই-ফোর ট্যাকটিক্যাল গাড়িতে মাউন্ট করা মাজিদ কম উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন মোকাবেলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

সিস্টেমটির সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা হলো এটি রাডার তরঙ্গ নির্গত না করেই ১৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে। এতে শত্রুপক্ষের অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে। মাজিদ একসঙ্গে চারটি লক্ষ্য ট্র্যাক ও আঘাত করতে পারে বলে মনে করা হয়।

তবে এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এফ-১৫ বা এ-১৯-এর মতো যুদ্ধবিমান আইআর সেন্সর দিয়ে ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এদের গতি, চালচলন এবং পাল্টা ব্যবস্থা অত্যাধুনিক। আধুনিক যুদ্ধবিমানে থাকে শীতল নজল, লো-অবজার্ভেবিলিটি আবরণ, এবং উচ্চ-উচ্চতার ফ্লাইট প্রোফাইল যা তাপীয় চিহ্ন অনেক কমিয়ে দেয়। ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্যামেরা পরিসর, আবহাওয়া, কুয়াশা এবং দ্রুতগতির ছোট লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে প্রায়ই ব্যর্থ হয়। এর ওপরে রয়েছে যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া ফ্লেয়ার ও ডিকয়। যা মিসাইলের সিকার হেড বিভ্রান্ত করার জন্য ডিজাইন করা।

তাহলে ইরান কিভাবে নির্ভুলভাবে যুদ্ধবিমানগুলোতে টার্গেট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান সম্ভবত এই বিমানগুলোকে খুব কাছ থেকে এবং কম উচ্চতায় থাকাকালীন আক্রমণ করেছে, যখন পাইলটের পক্ষে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার সময় ছিল না। এনডিটিভি 

সম্পাদকীয় :

Editor and Publisher-    Muhammad Nurul Islam

Executive Editor-  Kazi Habibur Rahman.  Managing Editor -  Eng. Mohammed Nazim Uddin
Head Office: Paris, State: Île-de-France
Dhaka office : House No-421 (1st Floor), Road No- 30, New DOHS, Mohakhali, Dhaka. Bangladesh.

Email: editor.eurobarta@gmail.com.

www.eurobarta.com সকল অধিকার সংরক্ষিত 

অফিস :