//কাজী হাবিবুর রহমান//
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হতে পারে। আশা এবং স্বপ্নই মানুষের চলার পথের অনুপ্রেরণা।মানুষের মধ্যে এটি থাকতেই হবে। স্বপ্ন মানেই গন্তব্য। আমার কী আশা,কোথায় যেতে চাই,কী অর্জন করতে চাই তার নামই স্বপ্ন।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস, ছোট অবস্থায় থেকেও জীবনে বড় অর্জন করার সংকল্প – সবকিছুই উৎসই আসলে এটি।
ফরাসী দার্শনিক, লেখক এবং সাংবাদিক আলবার্ট /আলব্যার কাম্যু বলেন,"যেখানে কোন আশা নেই সেখানে এটি আবিষ্কার করা আমাদের উপর কর্তব্য।"
আশা মানুষের নিত্যসঙ্গী। মানুষের মনে স্বপ্ন বুনতে,সামনে এগিয়ে যেতে এবং বড়ো কিছু করার পিছনে আশাই বড়ো অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে থাকে।
মানুষের স্বপ্নের কোনো শেষ নেই, এমনকি মৃত্যুর পরেও জান্নাত লাভের স্বপ্নে বিভোর মানুষ।
আমরা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নই আমাদের বাচিয়ে রাখে, আশা আর স্বপ্ন মানব জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
মানুষ স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকার মূল প্রেরণাই হলো স্বপ্ন। স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা থেকেই আসে চেষ্টা এবং আশা।যার উপর ভিত্তি করেই মানুষের জীবন কেটে যায়।
আমাদের সকলের মনে রাখা দরকার যে, মানুষ স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে না; স্বপ্নই মানুষকে সচল রাখে। স্বপ্নহীন মানুষ বিভ্রান্ত, জীবন নদীতে সে হয় মাঝিহীন নৌকার মত।
"যার স্বপ্ন বড়, তার ঘুম ছোট"
স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো বরং স্বপ্ন সেটাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।
এ পি জে আবদুল কালাম বলেছেন, ‘স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে। স্বপ্ন সেটাই, যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না’।
স্বপ্ন এবং ঘুমের মধ্যে সম্পর্ক বিপরীতমুখী।যে মানুষ বড়ো কিছু করতে চায়, তার চোখে ঘুমের থেকেও জরুরি হয় স্বপ্ন।সুযোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে।নিজেই সুযোগ তৈরি করা এটিই স্বপ্ন ও চ্যালেঞ্জ।
জীবন হোক কর্মময়, নিরন্তর ছুটে চলা। চিরকাল বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তো কবর পড়েই আছে।হযরত আলী (রা:)
কারণ—
যে মানুষ শুধু বাঁচার জন্য বাঁচে, তার জন্য আরাম-আয়েশই যথেষ্ট।
বড় স্বপ্নের মানুষ রাত জেগে কাজ করে, ব্যর্থতার পরও আবার উঠে দাঁড়ায়, আরাম-আয়েশ ছেড়ে সামনে এগোয়। কারণ সে জানে—
একদিন এই স্বপ্নই তার জীবন বদলে দেবে।
মনে রাখুন,
যদি স্বপ্ন বড় হয় তবে সংগ্রামও বড় হবে।
আর সংগ্রাম বড় হলেই সফলতাও হবে অসাধারণ।
আমার যখন ৮ম শ্রেণি পড়ি ,তখন থেকেই একটি শ্লোগান দিয়ে আসছি- 'মানব জীবন কর্মময়, মৃত্যুর আগে বিশ্রাম নয়।'
"জীবন হোক কর্মময়, নিরন্তর ছুটে চলা। চিরকাল বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তো কবর পড়েই আছে, -হযরত আলী (রা:)"
সেদিন পর্যন্ত আমি থাকবো না ! কিন্তু আমার কর্ম থেকে যাবে ! রাসুলে করীম (সঃ) বলেছেন
“ উত্তম মানুষ হচ্ছে যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় “।
👉উদাহরণ ১:) ডাক্তার শেখ আবু মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯১১-১৯৮৯) হলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন জাতীয় অধ্যাপক। তিনি ১৯৬৫ সালে ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমানে বারডেম হাসপাতাল নামে পরিচিত।
আজ বারডেম হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসা করেছেন। এমন অসংখ্য হাজার হাজার মানুষ আছেন যাদের ভালো কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানবতার জন্য উপকারী। মানুষ মারা যায়, কিন্তু তাদের কাজ মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকে।
👉উদাহরণ ২:) — ড. ফজলুর রহমান খান (Fazlur Rahman Khan), আধুনিক আর্কিটেকচার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাসে এক বিপ্লবী নাম।
যে বাঙালি বদলে দিয়েছিলেন পৃথিবীর আকাশরেখা।
বিশ্বের প্রতিটি শহর আজ টাওয়ারে ভরপুর—শিকাগো, দুবাই, নিউ ইয়র্ক, সিঙ্গাপুর কিংবা সাংহাই। এসব আকাশচুম্বী অট্টালিকার প্রতিটি কাঠামো, প্রতিটি “skyscraper” এক অদৃশ্য বাঙালির ছোঁয়ায় দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি যা করেছিলেন, পৃথিবীতে আগে কেউ ভাবেনি।
১৯৬০-এর দশকে, বড় ভবন মানেই তখন “বেশি স্টিল, বেশি কংক্রিট, বেশি খরচ”।
ইঞ্জিনিয়াররা জানতেন না কীভাবে কম উপকরণে, কম জায়গায়, কিন্তু বেশি উঁচু ভবন বানানো যায়।
ঠিক সেই সময় উদ্ভাবন করেন —
“টিউব স্ট্রাকচার সিস্টেম (Tube Structure System)”
তার মূল ধারণা ছিল অবিশ্বাস্য রকম সহজ কিন্তু বৈপ্লবিক।
“পুরো ভবনটিকে একটি বিশাল ফাঁপা নলের মতো আচরণ করাও,যাতে বাইরের দেয়ালগুলোই লোড বহন করে।”
"সৃষ্টিশীল মানুষ অর্জনের ইচ্ছা থেকে কাজ করে, অন্যকে হারানোর মানসিকতা থেকে নয়।" – আইন র্যান্ড
পৃথিবীর প্রথম এনিমেশন প্রোগ্রামার, ওয়াল্টার এলিয়াস ডিজনি(Walter Elias Disney) বলেন,
"যদি আপনি স্বপ্ন দেখতে পারেন, তবে আপনি তা করতেও পারবেন।"
তার কথাই আমাদের আজকের অনুপ্রেরণা রইলো।
লেখক,
সমাজকর্মী, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক।
প্যারিস,ফ্রান্স
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হতে পারে। আশা এবং স্বপ্নই মানুষের চলার পথের অনুপ্রেরণা।মানুষের মধ্যে এটি থাকতেই হবে। স্বপ্ন মানেই গন্তব্য। আমার কী আশা,কোথায় যেতে চাই,কী অর্জন করতে চাই তার নামই স্বপ্ন।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস, ছোট অবস্থায় থেকেও জীবনে বড় অর্জন করার সংকল্প – সবকিছুই উৎসই আসলে এটি।
ফরাসী দার্শনিক, লেখক এবং সাংবাদিক আলবার্ট /আলব্যার কাম্যু বলেন,"যেখানে কোন আশা নেই সেখানে এটি আবিষ্কার করা আমাদের উপর কর্তব্য।"
আশা মানুষের নিত্যসঙ্গী। মানুষের মনে স্বপ্ন বুনতে,সামনে এগিয়ে যেতে এবং বড়ো কিছু করার পিছনে আশাই বড়ো অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে থাকে।
মানুষের স্বপ্নের কোনো শেষ নেই, এমনকি মৃত্যুর পরেও জান্নাত লাভের স্বপ্নে বিভোর মানুষ।
আমরা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নই আমাদের বাচিয়ে রাখে, আশা আর স্বপ্ন মানব জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
মানুষ স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকার মূল প্রেরণাই হলো স্বপ্ন। স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা থেকেই আসে চেষ্টা এবং আশা।যার উপর ভিত্তি করেই মানুষের জীবন কেটে যায়।
আমাদের সকলের মনে রাখা দরকার যে, মানুষ স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে না; স্বপ্নই মানুষকে সচল রাখে। স্বপ্নহীন মানুষ বিভ্রান্ত, জীবন নদীতে সে হয় মাঝিহীন নৌকার মত।
"যার স্বপ্ন বড়, তার ঘুম ছোট"
স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো বরং স্বপ্ন সেটাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।
এ পি জে আবদুল কালাম বলেছেন, ‘স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে। স্বপ্ন সেটাই, যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না’।
স্বপ্ন এবং ঘুমের মধ্যে সম্পর্ক বিপরীতমুখী।যে মানুষ বড়ো কিছু করতে চায়, তার চোখে ঘুমের থেকেও জরুরি হয় স্বপ্ন।সুযোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে।নিজেই সুযোগ তৈরি করা এটিই স্বপ্ন ও চ্যালেঞ্জ।
জীবন হোক কর্মময়, নিরন্তর ছুটে চলা। চিরকাল বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তো কবর পড়েই আছে।হযরত আলী (রা:)
কারণ—
যে মানুষ শুধু বাঁচার জন্য বাঁচে, তার জন্য আরাম-আয়েশই যথেষ্ট।
বড় স্বপ্নের মানুষ রাত জেগে কাজ করে, ব্যর্থতার পরও আবার উঠে দাঁড়ায়, আরাম-আয়েশ ছেড়ে সামনে এগোয়। কারণ সে জানে—
একদিন এই স্বপ্নই তার জীবন বদলে দেবে।
মনে রাখুন,
যদি স্বপ্ন বড় হয় তবে সংগ্রামও বড় হবে।
আর সংগ্রাম বড় হলেই সফলতাও হবে অসাধারণ।
আমার যখন ৮ম শ্রেণি পড়ি ,তখন থেকেই একটি শ্লোগান দিয়ে আসছি- 'মানব জীবন কর্মময়, মৃত্যুর আগে বিশ্রাম নয়।'
"জীবন হোক কর্মময়, নিরন্তর ছুটে চলা। চিরকাল বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তো কবর পড়েই আছে, -হযরত আলী (রা:)"
সেদিন পর্যন্ত আমি থাকবো না ! কিন্তু আমার কর্ম থেকে যাবে ! রাসুলে করীম (সঃ) বলেছেন
“ উত্তম মানুষ হচ্ছে যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় “।
👉উদাহরণ ১:) ডাক্তার শেখ আবু মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯১১-১৯৮৯) হলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন জাতীয় অধ্যাপক। তিনি ১৯৬৫ সালে ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমানে বারডেম হাসপাতাল নামে পরিচিত।
আজ বারডেম হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসা করেছেন। এমন অসংখ্য হাজার হাজার মানুষ আছেন যাদের ভালো কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানবতার জন্য উপকারী। মানুষ মারা যায়, কিন্তু তাদের কাজ মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকে।
👉উদাহরণ ২:) — ড. ফজলুর রহমান খান (Fazlur Rahman Khan), আধুনিক আর্কিটেকচার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাসে এক বিপ্লবী নাম।
যে বাঙালি বদলে দিয়েছিলেন পৃথিবীর আকাশরেখা।
বিশ্বের প্রতিটি শহর আজ টাওয়ারে ভরপুর—শিকাগো, দুবাই, নিউ ইয়র্ক, সিঙ্গাপুর কিংবা সাংহাই। এসব আকাশচুম্বী অট্টালিকার প্রতিটি কাঠামো, প্রতিটি “skyscraper” এক অদৃশ্য বাঙালির ছোঁয়ায় দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি যা করেছিলেন, পৃথিবীতে আগে কেউ ভাবেনি।
১৯৬০-এর দশকে, বড় ভবন মানেই তখন “বেশি স্টিল, বেশি কংক্রিট, বেশি খরচ”।
ইঞ্জিনিয়াররা জানতেন না কীভাবে কম উপকরণে, কম জায়গায়, কিন্তু বেশি উঁচু ভবন বানানো যায়।
ঠিক সেই সময় উদ্ভাবন করেন —
“টিউব স্ট্রাকচার সিস্টেম (Tube Structure System)”
তার মূল ধারণা ছিল অবিশ্বাস্য রকম সহজ কিন্তু বৈপ্লবিক।
“পুরো ভবনটিকে একটি বিশাল ফাঁপা নলের মতো আচরণ করাও,যাতে বাইরের দেয়ালগুলোই লোড বহন করে।”
"সৃষ্টিশীল মানুষ অর্জনের ইচ্ছা থেকে কাজ করে, অন্যকে হারানোর মানসিকতা থেকে নয়।" – আইন র্যান্ড
পৃথিবীর প্রথম এনিমেশন প্রোগ্রামার, ওয়াল্টার এলিয়াস ডিজনি(Walter Elias Disney) বলেন,
"যদি আপনি স্বপ্ন দেখতে পারেন, তবে আপনি তা করতেও পারবেন।"
তার কথাই আমাদের আজকের অনুপ্রেরণা রইলো।
লেখক,
সমাজকর্মী, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক।
প্যারিস,ফ্রান্স