নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা ও সফরসঙ্গীদের হেনস্থা করার খবর আগেরই ছিল। আওয়ামী লীগ ঘোষণা করে কঠোর প্রতিবাদের। তবে প্রফেসর ইউনুসকে সেটা না পারলেও সফরসঙ্গী বিশেষ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপির দুই নেতা নেত্রী আখতার হোসেন ও তাসনিম জারাকে হেনস্থা করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল অনেক সিনিয়র নেতা তাকে নিউ ইয়র্কের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা নাম ধরে ডেকে ডেকে গালমন্দ করেন। আর আখতারের উপর ডিম মেরে মব তৈরি করে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা কর্মী। তাছাড়া তাসনিম জারাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে প্রধান উপদেষ্টাকে নিরাপত্তা দিতে নিয়ে যাওয়া হলেও সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা দানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট। অথচ এমনটা করার হুমকি আগের ই ঘোষণা দেয়া।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়।
প্রশ্ন উঠেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রোটকল মেইনটেইন করাদের ক্ষেত্রেও।
প্রধান উপদেষ্টা দাওয়াত দিয়ে সফরসঙ্গী করে নিয়ে গেছেন। তাদের সুরক্ষা দেয়ার দ্বায়িত্ব তার ই। কিন্তু এ ব্যাপারে কোথায় গাফিলতি ছিল সেটা ক্ষতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ও দাবি উঠেছে।
এদিকে যেহেতু আওয়ামী লীগ আগ থেকেই এমন মব তৈরির প্লান কষে এবং সেটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ও পড়েছিল, তাহলে কেন যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি জেকেএফ বিমান বন্দরে দলের মহাসচিবকে সুরক্ষা দিতে উপস্থিত ছিল না, এটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলে এতটা করার হয়তো সাহস পেত না। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এ ক্ষেত্রে রহস্য জনক ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ। বিষয়টা নিয়ে বিএনপিতেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর নিউইয়র্কের পুলিশ হাজির হলেও তারা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার আগেই সব ঘটে গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মিজান নামের এক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে পুলিশ তাদের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে। পুলিশ অন্যদেরকেও আটকের চেষ্টা করছে। বিষয়টা এমন এক সময় করেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করছে এবং ব্যাপক ধরপাকড় করছে।
তবে সফরসঙ্গী জামায়াতের দুই নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে বের করে নিয়ে যায়।